Posts

বিবাহের প্রথম প্রহর (১)


 ঘরে নাকি সুন্দরী বউ থাকলে পুরুষ মানুষের অফিস শেষ হতে দেরি কিন্তু ঘরে ফিরতে দেরি হয়না, 

আর এদিকে আমার উনি.............

 আজ সকালে আমাকে অফিস থেকে ফোন করে বলে....

-রুহি, আমার তিন দিনের ট্যুরে যেতে হবে আজকে, এখান থেকে সোজা রওনা হতে হবে।


মনটা খারাপ হলো তবুও তাকে বুঝতে দিলাম না,,

 আস্তে করে শুধু বললাম 

-আচ্ছা ঠিক আছে ফিয়ামানিল্লাহ নিজের খেয়াল রেখো।

 বিয়েটা আমরা পালিয়ে করেছিলাম ১১ মাস ২৮ দিন আগে,, 

আমার স্বামী তার পরিবারের একমাত্র ছেলে হবার সুবাদে তাকে পরিবার থেকে বিতাড়িত করা হয়নি 

এবং আমাকে সহ একপ্রকার বাধ্য হয়েই মেনে নিতে হয়েছিল তার পরিবারের।

 যদিও আমার মা-বাবা এখনো আমাকে মেনে নেয় নি। 

আমাদের বিবাহবার্ষিকী কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে শুরু হয়ে যাবে 

কিন্তু সে তো আজকে ফিরবে না,, মন খারাপ হয়তো এজন্যই মূলত লাগছে। 

পুরনো স্মৃতিগুলো মনে পড়ছে,,

 আগে আমার জন্মদিন গুলোতে যেকোন উপায়ে হোক সে আমাকে একটা না একটা সারপ্রাইজ দিত।

 আমি অনেক বেশি অবাক হতাম,, ওর প্রতিবার নতুন নতুন সারপ্রাইজ এ।


 আমাদের প্রেমের এক বছর পূর্তিতে,, সেই ঝুম বৃষ্টি ছিল সেই রাতে।

এমন সময় তার ফোন বন্ধ,, আমি টেনশনে একদম শেষ হয়ে যাচ্ছিলাম একপ্রকার।

 হঠাৎ কলিং বেল বেজে উঠল আমি আর নুসরাত জেগেছিলাম (আমার ছোট বোন) গেট খুলতে আমি গেলাম..

 গেট খুলে দেখি কেউ নেই কিন্তু গেটের সামনে একটা বড়সড় বাক্স রাখা,, 

সাথে কিছু প্যাকেট। 

আমি বুঝেছি এই পাগলামি ইরাদ ছাড়া আর কারো হবে না,, 

ঘড়ির কাটায় ঠিক বারোটা তখন মেসেঞ্জারে তার ভিডিও কল। 

রিসিভ করতেই দেখি সে কাকভেজা হয়ে ঠিক আমার বাড়ির নিচে দাঁড়িয়ে আছে।


- হ্যাপি অ্যানিভার্সারি জান

 রাগ অভিমান আর ভালোবাসায় আমার চোখ ভর্তি পানি। 

-হ্যাপি এনিভার্সারি টু ইউ টু জান

কিন্তু তুমি কি পাগল এই রাতের বেলায় তোমাকে কে বলেছিল এতকিছু করতে??

- তোমার ভালোবাসা। একটা হাসি দিয়ে।

-তোমাকে নিয়ে আর পারিনা আমি।

-মাত্র এক বছর জান,, বাকিটা জীবন তো আমাকে নিয়ে পাড়ি দিতে হবে আপনার। 


এরকম ভালোবাসা খুনসুটিভরা সম্পর্ক ছিল আমাদের,, 

এখন এমন না যে ইরাদ আমাকে ভালোবাসে না বা ওর মায়া নেই,,

সবই আছে কিন্তু প্রায় সাত দিন ধরে ও কেমন কেমন যেন কথায় কথায় রাগ করছে। 

কিছু বলেও না ঠিকমত। 

ভেবেছিলাম আজ সব ঝামেলা সব রাগ অভিমান মিটিয়ে ফেলবো 

কিন্তু পেলামই না ওকে,, যাক বারোটা বাজলেই আজ রাতেও ভিডিও কল দিব।


 -রুহি,,কই??(ইরাদের বড় বোন) 

-জি আপা??

-তোমার দুলাভাইয়ের জন্য এক কাপ চা বানায় দাওতো,, আমার শরীরটা খারাপ লাগতেছে। -আচ্ছা আপা 

-আর শুনো,, যখন চা বানাবে তো আমার জন্য ও বানায়ো, সাথে কয়েকটা পড়াটাও বানায়ো।

 মাংসের কিমা দিয়ে

- আপা মাংস তো সব ডিপে রাখা ছুটতে সময় লাগবে। 

আলু পরোটা বানাই? 

-না না মাংস দিয়ে বানাও সময় লাগুক।

 আর ইরাদ ও তো বাসায় নাই তুমি তো ফ্রি আছো।

 -আচ্ছা আপা 

এদিকে বারোটা বাজতে মাত্র 1 ঘন্টা বাকী তাও কাজ কোন রকম শেষ হলে হবে না এর মাঝেই ওকে হয়তো কল দিতে হবে..


 কিছুক্ষণ পর 

-ভাবি ভাবি 

-হ্যাঁ ফারিয়া বলো.. 

-তোমার ফোনটা দাও তো এক্ষুনি, কাল এক্সাম আছে। আমার ফোনে টাকা নেই। 


কিছু বলার আগেই ফারিয়া আমার ফোনটা দৌড় দিয়ে নিয়ে চলে গেল। 

আপা দুলাভাই এর খাবার দিয়ে ঘড়িতে দেখলাম 12:10 বাজে দৌড়ে ফারিয়ার রুমে গেলাম ইশারায় ফোন চাইলাম 

ও হাত দেখিয়ে বললো পাঁচ মিনিট। 

ঠিক বারোটা ত্রিশে আমি অবশেষে আমার ফোনটা হাতে পেলাম 

দেখলাম ইরাদের কোন কল বা মেসেজ আসেনি।

 তাও ঘরের দিকে যাওয়া শুরু করলাম, ভাবলাম সে হয়তো কাজের চাপে ভুলে গেছে,, মনটা যদিও খুবই খারাপ হয়ে গিয়েছিল।

 প্রথম অ্যানিভার্সারি তে আমি এটা কখনোই আশা করিনি। 

কিন্তু কিছুই করার নেই,, রুমে যেয়ে ফোন করবো এই ভেবেই রুমের দিকে যাওয়া যে দরজা খুলতে নেব। 


তখনই 

-মামনি মামনি (মাহি ইরাদের বোনের মেয়ে)

-আরে মাহি ঘুমাওনি এখনও? 

-মামনি কালকে একটা প্রজেক্ট আছে, আব্বু-আম্মু আমাকে করে দিচ্ছে না, খালা ও দিচ্ছে না তুমি দিবে? 

-আচ্ছা মা কিসের প্রজেক্ট?

- বউয়ের ছবি তুলে নিতে হবে..

 -বউয়ের ছবি তুলে দিতে হবে?? 

আমি ভাবলাম একটা ক্লাস টু এর বাচ্চার কি এমন প্রজেক্ট হতে পারে? যে তাকে বউয়ের ছবি তুলে নিতে হবে? তাও মাহিকে বললাম এত রাতে বউ কোথায় পাব? 

মাহি আমাকে জোর দিয়ে বলে

- তুমি সাজো না প্লিজ?

 এত রাতে বউ সাজবো??

 মাহিকে বললাম 

-কালই লাগবে সোনা?

 -হ্যা মামনী,, প্লিজ প্লিজ তুমি এখনই বউ সাজো।

 -আচ্ছা ঠিক আছে তাহলে আমি ঘর থেকে আমার জিনিসপত্র নিয়ে আসি..

 -না আম্মুর জিনিসপত্র দিয়ে তোমার সাজা লাগবে আম্মু সব আমার ঘরে রেখে গিয়েছে আস মামনি তুমি সাজো তারাতারি.. 


দেখলাম খুব সুন্দর একটা লাল শাড়ি জর্জেটের লাল কিছু কাচের চুড়ি রাখা,, পরে নিলাম চোখে কাজল আর কপালে একটা ছোট টিপ দিয়ে হালকা সেজে কয়েকটা ছবি তুললাম তুলে মাহির স্কুলের যে ল্যাপটপ সেটার মধ্যে ছবিগুলো একটা ফাইল আকারে গুছিয়ে দিলাম।

 ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি দেড়টা বাজে,,ভাবলাম ইরাদ হয়তো ঘুমিয়ে গিয়েছে কল করবো কি না?


আমি আমার রুমে দিকে আসতে থাকলাম আর চিন্তা করলাম হয়তো কাল সকালেই ওকে উইশ করতে হবে এত রাতে ঘুম ভাঙ্গানো টা ঠিক হবে না। 

না আমার রুমের দরজার লকে হাত দিতেই দেখি ভেতর থেকে দরজা লাগানো। 

বেশ জোরে ধাক্কা দিলাম কিন্তু দেখি না দরজা লাগানো ভেতর থেকে। 

কলিজার পানি শুকিয়ে গেল কারণ ইরাদ বাসায় থাকলেও কখনো দরজা লক করে না।

 বাড়িতে সবাই ঘুম। 

এত রাতে দরজা লক ভিতর থেকে..

কিভাবে কি??

 তিনবার আয়াতুল কুরসি পড়ে বুকে ফু দিলাম। ভাবলাম এবার শেষ একটা ধাক্কা দিব,, যদি দরজা খোলা থাকে তাহলে তো খুলল।

 আর নাহলে সবাইকে ডেকে নিয়ে আসব।


যেই কথা সেই কাজ,,

 দরজা ধাক্কা দিতেই দেখি দরজা খোলা,, রুমের লাইট বন্ধ। ভেতরে ঢুকে সুইচের দিকে হাত বাড়াতে কে যেন পেছন থেকে দরজাটা লাগিয়ে দিলো। 

যেই চিৎকার করতে যাবো তখনই আমার মুখ হাত দিয়ে কে জানো চেপে ধরল..

(আগামী পর্বে শেষ করে দিবো ইনশাআল্লাহ) 

গল্প : বিবাহের প্রথম প্রহর

পর্ব : ১

লেখক : অভিমানী লেখক 

Post a Comment

© Love Story BD. All rights reserved. Premium By FC Themes